চার্লস ব্যাবেজ কে? কেন তাকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়?
১৮২৮ সালে তিনি লুকাসিয়ান প্রফেসর হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত এ পদে আসীন ছিলেন।তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতে পছন্দ করতেন না ,তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে আরও সংহত দেখতে চেয়েছিলেন,বিশেষ করে গবেষণা ও বৃহত্তর পাঠ্যক্রম আরও বেশি করে নজর দেওয়া।ছয় বছর ধরে রিচার্ড জোনসের সাথে তার এই নিয়ে বিতর্ক চলে। তিনি কখনও অধ্যাপনা করেনি।এই সময়ের তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন।তিনি বেরা অফ ফিনসবারীর প্রার্থী হিসেবে দুবার সংসদে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৮৩২ সালে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনি তৃতীয় স্থান পান।১৮৩৪ সালে তিনি চারজনের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন।১৮৩৯ সালের শেষে তিনি লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসাবে পদত্যাগ করেন।ভ্যাভেলের সাথে কেমব্রিজের সংগ্রাম থেকেও দূরে চলে যান।গণিত ও গুনতি এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতিগুলির উপর তিনি আরও মনোযোগী হয়ে ওঠেন।তিনি ১৮২২ সালে ডিফারেন্স ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন এবং তৈরির বর্ণনা লিখে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তার বর্ণনা অনুসারে একটি ইঞ্জিন তৈরি করা হয় এবং দেখা যায় সেটি সঠিকভাবে কাজ করছে।
চার্লস ব্যাবেজ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। তিনি ১৮৩৪ সালে আধুনিক কম্পিউটারের মত নিয়ন্ত্রণ অংশ, গাণিতিক ও যৌক্তিক অংশ, স্মৃতি অংশ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্বলিত অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি মেকানিক্যাল কম্পিউটারের পরিকল্পনা করেছিলেন। চার্লস ব্যাবেজের এই যন্ত্রটি আধুনিক কম্পিউটারের পূর্বসূরি হয়ে
আছে বলে চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
প্রযুক্তির ইতিহাসের অন্যতম এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের নাম চার্লস ব্যাবেজ। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গণিতবিদ, দার্শনিক, আবিষ্কারক এবং যন্ত্রপ্রকৌশলী। তিনি ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। তিনিই সর্বপ্রথম প্রোগ্রামযোগ্য কম্পিউটারের ধারণার সূচনা করেন। ইতিহাসের প্রথম যান্ত্রিক কম্পিউটার আবিষ্কারের কৃতিত্বও তার। তার উদ্ভাবিত এই কম্পিউটারকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে আরো জটিল এবং আধুনিক ডিজাইনের কম্পিউটার তৈরি হয়। প্রথম সেই যান্ত্রিক কম্পিউটারের ডিজাইন এখনও লন্ডন সায়েন্স মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি সেই সময়ে সাফল্যের সাথে কাজ করতে পারেনি। তবে ১৯৯১ সালে তার ডিজাইন থেকেই সফলভাবে কর্মক্ষম একটি যন্ত্র তৈরি করা হয়। প্রতিভাধর এই ব্যক্তিত্বের সম্মানে বিশ্ববিখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তার স্মরণে বিভিন্ন স্থাপনা ও রাস্তার নাম রয়েছে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুপরবর্তী সময়েও তাকে নানান পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তার লেখা গ্রন্থগুলো এখন পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। ১৭৯১ সালে জন্ম নেয়া এই মনীষী মৃত্যুবরণ করেন ১৮৭১ সালে।